ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। সাইদুর রহমান অবিবাহিত ছিলেন।
তাঁর জন্ম রাজশাহী নগরীর পাঠানপাড়ায়। তিনি সাবেক গভর্নর ও আইনজীবী আতাউর রহমান এবং ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের ছেলে। তাঁর নানা ছিলেন রাজশাহীর প্রখ্যাত আইনজীবী ও শিক্ষানুরাগী মাদার বখশ।
আশির দশকে দৈনিক করতোয়ায় কাজের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন সাইদুর রহমান। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক ভোরের কাগজে কর্মরত ছিলেন। রাজশাহীর বিভিন্ন সমস্যা, সংকট ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন লেখালেখি ও সংগ্রাম করেছেন। সাইদুর রহমান রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাশিয়ার মস্কো যান এবং সেখানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
সাইদুর রহমানের ছোট বোন আফরোজী রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁর ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে রাখা হয়েছে।
সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাইদুর রহমান ছিলেন রাজশাহীর একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর নানা মাদার বখশ ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিক। রাজশাহীতে উচ্চশিক্ষার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতে তিনি ছিলেন অন্যতম। সাইদুর রহমানের বাবা আতাউর রহমানও রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর মা ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমান সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্যকে শুধু স্মৃতিতে ধরে রাখেননি সাইদুর রহমান। জনকল্যাণের সেই ধারাকে নিজের জীবনেও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
বাদ আসর দরগাপাড়া মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে হেঁতেম খাঁ গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।








